• ABOUT
  • CONTACT
  • PRIVACY
  • SITEMAP
  • OFFICE

Theme Buzz Bangladesh

Menu
  • HOME
  • BLOGING
  • WIDGETS
  • ANDROID
    • Sub-Menu 1
    • Sub-Menu 2
      • Sub Sub-Menu 1
      • Sub Sub-Menu 2
      • Sub Sub-Menu 3
      • Sub Sub-Menu 4
      • Sub Sub-Menu 5
    • Sub-Menu 3
      • Sub Sub-Menu 1
      • Sub Sub-Menu 2
      • Sub Sub-Menu 3
      • Sub Sub-Menu 4
      • Sub Sub-Menu 5
  • EARNING
  • CATEGORIES
    • Sub-Menu 1
    • Sub-Menu 2
      • Sub Sub-Menu 1
      • Sub Sub-Menu 2
      • Sub Sub-Menu 3
      • Sub Sub-Menu 4
      • Sub Sub-Menu 5
    • Sub-Menu 3
      • Sub Sub-Menu 1
      • Sub Sub-Menu 2
      • Sub Sub-Menu 3
      • Sub Sub-Menu 4
      • Sub Sub-Menu 5
  • TOOLS

Nature

Archive for 2018

Sunday, March 11, 2018

AHK Team

অনুভূতির ইশারায়

 Sunday, March 11, 2018     রোম্যান্টিক গল্প      No comments   
লেখক : Akash Sarker Nil
.
দুপুর বেলা অফিসে বসে কাজ করতেছি আর ওমনি প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইলে টুং করে মেসেজ রিংটোন বেজে উঠলো, বুঝতেই পারলাম কেন আর কে মেসেজ দিয়েছে তাই মোবাইল টা বের করে হাতে নিলাম। মেসেজ টা ছিলো,
- এইযে ব্যস্ত বাবু দুপুরে খেয়েছেন?
আমিও একই ধরণের রিপ্লাই দিলাম,
- জ্বী ম্যাম খেয়েছি আপনি এবার খেয়ে নিন।
রিপ্লাই করার সাথে সাথে আবার মেসেজ দিল,
- আচ্ছা।
- একটু পর এসে পরবো ম্যাম রেডি থাকবেন আশা করি, আজকে আমরা ঘুরতে বেরুবো।
- রিয়েলি?
- হুম।
.
এরপর আর কিছু বললো না তাই আমিও আমার কাজে মনোযোগ দিলাম। কিছুক্ষণ কাজ করার পর কাজের চাপ অনেকটা কমে গেল তারপর ধীরে ধীরে স্যারের ফাইল গুলো পূর্ণ করে দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। নিজের বাইক নিয়েই অফিসে আসি, তাই বাইক নিয়ে খুব দ্রুত বাসায় পৌঁছে গেলাম। বাসায় গিয়ে দেখি পাগলীটা সাজুগুজু করে আম্মুর পাশে বসে চুপটি করে টিভি দেখছে আর আমি সামনে যেতেই একটা ভেংচি কাটলো। এরকম করার মানে টা আজ বুঝতে পারলাম না।
.
যাইহোক আমি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম আর ফ্রেশ হয়ে এসে আম্মুকে বলে ওকে নিয়ে বের হলাম ঘুরতে, রোদের তাপ টা কমে এসেছে তাই ঘুরতেও ভালো লাগছে। এখন আর বাইক নিয়ে আসিনি, দুজন রিক্সা করেই ঘুরতেছি। রাইসা আমার সাথে বাইকে ঘুরতে পছন্দ করে না, ও চায় সবসময় আমি ওর পাশে বসে থাকি তাই দুজন রিক্সা করেই বের হই ঘুরতে আসলে।
.
- ফুচকা খাবে?
মাথা নেড়ে হ্যাঁ সম্মতি জানালো তাই আমি রিক্সাওয়ালাকে বলে কোনো এক ফুচকার দোকানে যেতে বললাম। দোকানের সামনে গিয়ে দুজন নেমে পরলাম আর রিক্সা মামার ভাড়া মিটিয়ে দেওয়া মাত্রই ওনি চলে গেল। ও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে আর আমি ওর দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। কতগুলো ফুচকা খেয়েই হাতের ইশারায় দোকানিকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে,
- আফা হাত নাড়াচ্ছেন ক্যান? কিছু লাগবো?
- ভাই ও কথা বলতে পারে না। ঝাল লাগছে তাই পানি চাচ্ছে পানি দেন।
- মাফ করবেন ভাই বুঝি নাই।
- সমস্যা নাই।
তারপর ওকে পানি খাইয়ে আবার দুজন হাঁটা ধরলাম সামনের দিকে। মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি মুখটা ফ্যাকাসে করে রাখছে, হয়তো ঐ দোকানির কথায় মন খারাপ করছে।
- এই মন খারাপ?
- উউ ( মাথা নেড়ে না জানালো)
- চলো ওই মাঠের পাশে গিয়ে বসি।
তারপর পাগলীটাকে নিয়ে রাস্তার পাশে এক বড় মাঠের অপর পাশে গিয়ে বসলাম। ঘাসের উপর বসা মাত্রই আমার পকেটে হাত ঢুকিয়ে আমার ফোনটা বের করলো। তারপর ফোনে ডাটা অন করে আবার আমার হাতে ফিরিয়ে দিল আর ওমনি ম্যাসেঞ্জারে পুকিং করে শব্দ হলো। সিন করতেই দেখি ও মেসেজ দিছে ওর ফোন থেকে। অতঃপর দুজনে বসে বসে চাটিং করতে লাগলাম।
.
ও মুখ দিয়ে ওর অনুভূতিটা প্রকাশ করতে না পারলেও সবসময় ইশারা দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করে। এতো বছর ওর সাথে থাকতে থাকতে ওর ইশারা গুলোর ভাষা বুঝে গেছি প্রায় তবুও যখন যেটা বুঝতে না পারি তখন সেটা মেসেজে বলে বা সামনে খাতা কলম থাকলে লিখে প্রকাশ করে।
আমি যখন অফিসে থাকি তখন আম্মুর সাথে থাকে সবসময়, আম্মু ওকে খুব আদর করে তাই কখনো কখনো একটু একটু ঝগড়া করলে আম্মুর কাছে গিয়ে বিচার দেয় আর আমাকে আম্মুর কাছে কানমলা খেতে হয়।
.
ভালবেসেই বিয়ে করেছিলাম ওকে, এক বছর হয়নি এখনো আমাদের বিয়েটা হয়েছে। অন্য সবাই যেমন করে ভালবাসে আমিও তেমন করে ভালবেসে ছিলাম এই বোবা মেয়েটাকে। যখন ওকে প্রপোজ করেছিলাম তখন সরাসরি না করে দিয়েছিল, খুব কাদতেঁ হয়েছিল আমাকে ওর ভালবাসার জন্য কিন্তু অবশেষে আমিই জিতে যাই।
.
কয়েক বছর আগে,
আজ কলেজের প্রথম দিন, অনার্স ফাস্ট ইয়ারে। অনেক আগেই ডিগ্রি ফাইনাল ইয়ারের রেসাল্ট দিয়েছিল তখন চিটাগাং থাকতাম, ভেবে ছিলাম এখন অনার্সে ভর্তি হই। যেই ভেবে ছিলাম আর ওমনি আব্বুর বদলি হয়ে যায় ঢাকায় তাই আমিও ভাবলাম ঢাকায় গিয়েই পড়বো। আর সেই ভাবে আজ ঢাকা কলেজে প্রথম দিন।
.
প্রথম দিন ক্লাস শেষ করে বাসায় যাই, বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিয়ে বাসার ছাদে পা দেওয়া মাত্রই চোখ গেল ছাদের পশ্চিম পাশে। দেখি সবুজ রংয়ের থ্রি পিচ পরে একটা মেয়ে বসে বসে বই পড়তেছে। কি সুন্দর চেহারা, মায়া যেন মুখ থেকে উপচে পরছে, অনেক সময় পলকহীন ভাবে সেই মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গেল এই অচেনা অজানা মেয়েটাকে।
.
আজ কয়েক দিন ধরে থাকছি এখানে কিন্তু আগে তো দেখিনি একে হঠাৎ করে আজ আসলো কোথা থেকে। কাছে গেলাম কিন্তু বই থেকে মুখ উঠালো না তাই ডাক দিলাম,
- এইযে কে আপনি?
-
- নাম কি আপনার?
-
- আগে তো দেখিনি হটাৎ করে কোথা থেকে আসলেন?
-
- বাব্বা, কিউট হয়েছেন বলে কি ভাব! অন্তত একটা প্রশ্নের উওর তো দিবেন।
-
- মুখে টেপ লাগাইছেন নাকি যত্তোসব।
.
এইটুকু বলতেই দাঁড়িয়ে পরলো তারপর আমার চোখে চোখ রেখে একটু তাকালো, দেখি চোখে পানি টলমল করছে এই বুঝি কেঁদে দিল। অবশেষে সত্যি সত্যিই কেঁদে দিল,
- এই কাঁদছেন কেন?
আর কিছু না বলে দৌড়ে বই নিয়ে নিচে চলে গেল আর আমি তো মদনার মতো ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম। কি ব্যপার এমন হলো কেন? কিছুক্ষণ পর নিচে চলে গেলাম, আমার রুমে গিয়ে বসা মাত্রই আম্মু আসলো।
- ছাদে গেছিলি একটু আগে?
- হ্যাঁ।
- একটা মেয়ে ছিলো ওখানে?
- হ্যাঁ। কেন?
- ওকে কি বলেছিস?
- কি বলবো? জাস্ট একটু রাগ দেখাইছি, ভাব নেয় তাই।
- ওরা আজকে সকালে এসেছে এখানে তুই কলেজ যাওয়ার পর আর ওরা আমাদের নিচের তলায় থাকে, স্যরি বলে আয় যা।
- কেন? স্যরি বলবো কেন?
- ও কথা বলতে পারে না।
.
আম্মুর মুখে কথাটা শুনেই মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে উঠলো। বিশ্বাস হচ্ছে না আম্মুর কথা কিন্তু মেয়েটার আচরণ দেখে বিশ্বাস না করেও পারছি না। আজ আর ওনাদের কাছে যাব না, কাউকে চিনি না, হুট করে গেলে কি ভাববে কে জানে। ওনারা আসা মাত্রই হয়তো আম্মু ওনাদের সাথে ভাব জমিয়ে নিয়েছে কিন্তু আমি তো আর পারবো না এতো তাড়াতাড়ি ভাব জমাতে তবুও আবার ছেলে মানুষ বলতে কথা।
.
পরের দিন, কলেজ শেষ করে বাসায় আসতেছি সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই এক মহিলা ডেকে উঠলো। হয়তো ওনিই সেই মেয়েটার আম্মু,
- কলেজ ছুটি হয়ে গেছে তোমার?
- হ্যাঁ আন্টি।
- ওহ্ আচ্ছা।
- আন্টি আমার নাম জানেন কিভাবে?
- তোমার আম্মু তো সবসময় তোমার গল্পই করে আমার কাছে এসে। যাইহোক আসতে না আসতেই তোমার আম্মুর মতো একটা ভালো বান্ধবী পেয়েছি।
- আচ্ছা এখন আসি আন্টি, ফ্রেশ হবো।
.
এইটুকু বলেই চলে আসলাম। বিকেলে পড়ন্ত রোদ তাই আর রুমে বসে মোবাইল টিপতে ভালো লাগছিল না তাই আবার একটু ছাদে গেলাম। আজকেও দেখি সেই মেয়েটা বসে আছে আর বসে বসে গান শুনতেছে ফোনে কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমাকে দেখা মাত্রই নিচে চলে আসতে লাগলো আর আমি তখনই ধপাস করে ওনার সামনে দাঁড়িয়ে পরলাম।
- স্যরি,
তবুও পাশ কাটিয়ে চলে আসতে লাগলো, মনে হয় মন খারাপ করছে আমার উপর, তাই আবার সামনে গিয়ে দুই কান ধরে বসে পরলাম আর তখনই খিলখিল করে হেসে উঠলো।
- স্যরি,
তারপর আমার কাছে এসে ওর হাত দিয়ে আমার হাত দুটি কান থেকে সরিয়ে দিল। আর তারপর মুখটা বাঁকা করে হাসি দিল।
- আপনার নাম?
- ( চুপ)
- ও আপনি তো বলতে পারেন না, এখন কিভাবে কথা বলি আপনার সাথে?
এইটুকু বলা মাত্রই আমার হাত থেকে আমার ফোনটা ছো মেরে নিয়ে নিল তারপর কি কি যেন করলো কিছুক্ষণ পর আবার আমার হাতে ফিরিয়ে দিল ফোন। দেখি ফোনের ডাটা অন করা আর ম্যাসেঞ্জারে রাইসা ইসলাম আইডি থেকে একটা মেসেজ এসেছে,
- আমার নাম রাইসা।
.
ওয়াও মেঘ না চাইতেই জল। আমি শুধু নাম জিজ্ঞেস করেছি আর ওনি ফেসবুক আইডিই দিয়ে দিল আর এটাই এখন ওনার সাথে কথা বলার একটা উওম ব্যবস্থা।
তারপর দুজনে ছাদে বসে বসে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে নিলাম তারপর আরো কিছুক্ষণ গল্প করলাম। দুজন একসাথে পাশাপাশি বসে আছি কিন্তু কেউ কারো মনের অনুভূতি গুলো কথায় প্রকাশ করতে পারছি না, আমি পারলেও তা মূল্যহীন কারণ শ্রোতা তো আর বলতে পারছে না তাই এখন আমাদের একমাত্র কথা বলার মাধ্যম হলো ইশারা আর ফেসবুক।
.
এভাবেই ধীরে ধীরে ফ্রেন্ডশীপ গড়ে উঠে ছিল এই বাকহীন মেয়েটার সাথে। দুজন প্রতিদিন বিকেল বেলা ছাদে পাশাপাশি বসে ফেসবুকে গল্প করতাম, ফেসবুকের মাধ্যমেই ঝগড়া করতাম কিন্তু যখন একটু বেশি রাগিয়ে দিতাম তখন ও ওর জায়গা থেকে এসে আমার পিঠে কিল ঘুসি দিত আর আমি জোরে জোরে হাসতাম। খুব ভালো লাগতো যখন ও পাশে বসে থাকতো আর ওর চুল গুলো বাতাসে উড়তো। যখন পাশে বসে ঝগড়া করতাম তখন এক রাগী লুক নিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতো কেন জানি না তখন ওকে ভালবাসতে ইচ্ছে করতো আমার।
.
রাইসা এখন ডিগ্রিতে পড়ে আর আমি অনার্সে, ও কলেজে খুব কম যেতো কারণ ও কলেজে গেলে কেউ ওর সাথে কথা বলতে পারতো না তাই তেমন বন্ধুও ছিলো না ওর।
ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করার দেড় বছর পর,
ছাদে দাঁড়িয়ে আছি রাইসার সামনে আর আমার হাতে একটা লাল গোলাপ আমার গালটাও লাল হয়ে গেছে কারণ একটু আগে আমি রাইসাকে প্রপোজ করেছি আর ও একটা থাপ্পড় দিয়ে আমার গাল লাল করে দিয়েছে।
.
- মারলে কেন?
ও তো আর মুখে বলতে পারে না তাই হাত দিয়ে ইশারা করে কি যেন বুঝাতে চাইছে আর আমি সেগুলোর আগা মাথা কিছুই বুঝছি না তাই পকেটে রাখা ছোট প্যাড আর কলম দিয়ে দিলাম ওর হাতে।
- ফাজলামো করো আমার সাথে? ( প্যাডে লিখছে)
- ফাজলামো করবো কেন? যা সত্যি তাই বলছি, আমি তোমাকে ভালবাসি।
- দেখো আমাকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো বন্ধ করো প্লিজ, আমার আর সয্য হচ্ছে না।
- মিথ্যা না প্লিজ বিশ্বাস করো।
- আমার মতো একটা বোবা মেয়ের কাছে তোমার মতো একটা ছেলের ভালবাসা পাওয়া এটা মিথ্যা স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু না তাই দয়া করে এসব বন্ধ করো।
- আমি কি তোমাকে কখনো বলেছি তুমি বাকহীন মেয়ে?
- না।
- তাহলে আমার ক্ষেত্রে তুমি কেন নিজেকে এমন ভাবছো? নিজেকে এতো অবহেলা করছ কেন? তোমাকে ভালবাসা নিষেধ নাকি?
- আমি জানি না, বায়।
প্যাড টা আমার হাতে দিয়ে দৌড়ে কাদতেঁ কাদতেঁ নিচে চলে গেল। আমি এবার ঠিক বুঝতে পারছি ও আমার প্রতি কিছু টা হলেও দূর্বল, তা না হলে চলে যাওয়ার সময় এভাবে কাঁদতো না। কিন্তু ও সেটা নিজে থেকে প্রকাশ করতে পারছে না।
.
এরপর প্রায় সপ্তাহ খানেক প্রতিদিন ওর জন্য ছাদে অপেক্ষা করেছি কিন্তু আসেনি, ফোনে শতশত মেসেজ করেছি কিন্তু রিপ্লাই দেয়নি, ফোন দিলে কেটে দিয়েছে। যখন ওকে ডাকতে ওর রুমের কাছে যেতাম তখনই ও আমাকে দেখা মাত্র রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। ওকে কাছে না পাওয়া আর এমন অবহেলার জন্য প্রতিদিন চোখের জল ফেলতাম, খুব ভালবেসে ফেলেছি ওকে, এতদিন ধরে একটা কথাও বলছে না খুব মিস করতেছি ওকে। আর বয়ে বেড়াতে পারছি না ওকে ছাড়া এই একাকিত্ব।
.
আরো কিছুদিন পর,
ছাদে বসে আছি, পাশে রাইসা নেই। যেদিন ওকে প্রপোজ করেছিলাম সেদিন থেকে ওকে ভালভাবে দেখিনি, আমার সামনে আসতো না আর কথা তো একদমই হয়নি। ছাদে বসে ওকে একটা মেসেজ লিখলাম,
- আর পারছি না আমি, তোমার অবহেলা আর আমার একাকিত্ব কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমাকে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাদে বসে থাকবো আজ যদি সামনে না আসো তাহলে আর কোনো দিন আমাকে দেখতে পাবে না, হারিয়ে যাব চিরদিনের জন্য।
মেসেজ টা লিখে পাঠানোর কতক্ষণ পরই দেখি একটা বড় প্যাড আর কলম হাতে ছাদে আসছে।
.
- মেসেজে কি বললে তুমি?
- আজ ভালবাসি বলো নয়তো চিরদিনের জন্য হারাবে।
- কি করবে তুমি?
রাইসা এ কথা বলার পর আমি ছাদের একেবারে কিনারায় গিয়ে দাঁড়ালাম।
- ছাদটা খুব উচুঁ তাই না?
ওমনি দৌড়ে এসে আমার হাত ধরে কিনারা থেকে সরিয়ে আনলো।
- আনলে কেন?
- পড়ে যাবে তো তুমি।
- পরলে মরে যাব আর মরে গেলে তোমার কি? তোমার তো কিছু যায় আসে না।
এ কথা বলার পর মাথাটা তুলে উচুঁ করতেই আবার একটা থাপ্পড় দিল এবার আর দৌড়ে চলে যায়নি, সরাসরি বুকে এসে কান্না করে দিছে।
.
ব্যস পেয়ে গেলাম আমি আমার বাকহীন পরীটাকে। দুজনে এক হওয়ার পর থেকে আমি আর ওকে চোখে চোখে রাখবো কি ওই সবসময় আমার উপর নজরদারি করত আমি কখন কি করি!
অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে একটা চাকরির জন্য অপেক্ষা করতেছি আর এখনো কাউকে জানাইনি আমাদের সম্পর্কের কথা আগে একটা চাকরি পাই তারপর সরাসরি আম্মুর কাছে রাইসাকে চাইবো। কথা বলতে না পারুক, পরিবারকে গুছাতে আর ভালবাসতে তো পারবো, এতেই আমার অনেক।
.
মাঝেমধ্যে একটু ছোটখাটো ঝগড়া হতো, রাগ দেখিয়ে কথা বলতাম না আর ও তখন বসে বসে কাঁদতো আর বলতো, আমি কথা বলতে পারি না বলে আমার সাথে রাগ দেখাও তাই না, নতুন কাউকে খুজেঁ নাও গিয়ে।
যখন ও এভাবে বলতো তখন আমার নিজেরই খুব কষ্ট হতো তাই আর রাগ করে থাকতে পারতাম না দুজনে আবার মিলে যেতাম।
.
চাকরি পাওয়ার কয়েক মাস পর রাইসাকে নিয়ে দুজনে একসাথে আম্মুর কাছে যাই আর তখন রাইসার আম্মু আর আমার আম্মু দুজনে একসাথে বসে গল্প করছিল। আমি আর রাইসা গিয়ে দুজনে ওনাদের সামনে দাঁড়াই।
- এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন কিছু বলবি?
- হ্যাঁ আম্মু।
- বল,
- আম্মু আমি রাইসাকে বিয়ে করবো।
- কিইইই?
আন্টি আর আম্মু যেন আকাশ থেকে পড়লো, দুজনেই খুব অবাক। রাইসার দিকে তাকিয়ে দেখি ও খুব ভয় পেয়েছে কারণ ও ভাবছে আমার আম্মু হয়তো ওকে মেনে নিবে না। ওর আম্মু তো চুপ করে বসে আছে হয়তো ওনি কোনো আপত্তি করবে না।
- কবে থেকে চলছে এসব হ্যাঁ? ( জোরে ধমক দিয়ে)
ধমক শুনে আমিও খুব ভয় পেয়ে গেলাম আর রাইসার দিকে তাকিয়ে দেখি ও কেঁদে দিছে। এই রে আম্মু রাইসার দিকে যাচ্ছে, কি যে বলবো ওকে!
- এই মেয়ে আমার ছেলেকে ভালোবাসিস?
- ( মাথা নেড়ে হ্যাঁ সম্মতি দিল)
- পাগলী মেয়ে, আমার সাথে না তোর খুব ভাব তাহলে আগে কখনো বলিসনি কেন?
.
আম্মুর এমন কথা শুনে তো আমি আবারও রিতিমত অবাক হলাম আর রাইসাকে দেখি ইতিমধ্যে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিছে।
অতঃপর দুই পরিবারের মতেই আমাদের বিয়েটা সুন্দর ভাবে হয়ে যায়। বাসর রাতে যখন বাসর ঘরে গেলাম তখন ও খুব কান্না করেছিল রাইসা, ও হয়তো এতটা কল্পনা করেনি। সেদিন সারারাত ও আমার বুকে মাথা রেখে আমার সাথে ফেসবুকে চাটিং করেছে। মুখে না বলতে পারুক লিখে ওর অনুভূতিটা তো আমার সাথে শেয়ার করতে পারে এতেই আমি অনেক সুখী।
.
অনেক ভেবে ফেললাম চলে যাওয়া দিন গুলো, সন্ধ্যা হয়ে গেছে এখন বাসায় যাওয়া দরকার। পাগলীটাকে নিয়ে আবার বাড়ির দিকে রওনা হলাম। আমার ভালবাসা আর বিশ্বাসের কাছে ওর প্রতিবন্ধকতা মূল্যহীন।
ভালবাসি ঐ মায়া ভরা নিশ্চুপ মেয়েটাকে।
ভালবাসি মেয়েটার হাতের ইশারাকে। সারাজীবন আগলে রাখবো এই বুকের ভেতর কালো লম্বা চুলের ঐ কেশওয়ালীকে।
Read More
AHK Team

প্রেম ও ভালবাসা পার্থক্য

 Sunday, March 11, 2018     রোম্যান্টিক গল্প      No comments   
একটা মেয়ের শরীরের গন্ধ তোমার ভালো লাগে । এইটা হচ্ছে প্রেম ।
আরেকটা মেয়ে আছে , যাকে তুমি অনুভব করো । তাকে ভালো লাগার জন্য তার উপস্থিতি কিংবা শরীরের গন্ধ লাগে না । এটা হচ্ছে ভালোবাসা ।
কোন একটা মেয়ের সাথে রুমডেট করলে তুমি আনন্দ পাও । আরেকটা মেয়ে আছে যার কথা ভাবলেই তুমি আনন্দ পাও । প্রথমজন হচ্ছে তোমার প্রেমিকা । দ্বিতীয়জন হচ্ছে তোমার ভালোবাসার মানুষ ।
তোমার বন্ধু মহলে কোন একটা মেয়ে আছে যার সাথে তুমি গা ঘেঁষে বসার জন্য অস্থির থাকো । এই মেয়েটি হচ্ছে তোমার কামনার বস্তু ।
একই ভাবে তোমার মস্তিস্কের অন্দরমহলে একটা মেয়ে আছে যার সাথে তুমি গা ঘেঁষে বসার জন্য অস্থির না । কিন্তু তার অনুপুস্থিতির জন্য তুমি অস্থির । তার সাথে কথা বলার জন্য তুমি অস্থির । এই মেয়েটা হচ্ছে তোমার ভালোবাসার মানুষ ।
একটা মেয়ের নুড পিক দেখার জন্য সব সময় তুমি অপেক্ষা করো । আরেকটা মেয়ে আছে যার নুড পিক তোমার মাথাতেও আসে না । চাইলেও তুমি আনতে পারো না । প্রথমজন হচ্ছে তোমার প্রেমিকা । পরের জন হচ্ছে তোমার ভালোবাসা ।
একটা মেয়ের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে মজা নেয়ার পরেও তুমি মেয়েটার কথা ওইভাবে চিন্তা করো না । সব কিছু ফোনের ওই মজা পর্যন্তই । কিন্তু এমন একজন মানুষের অস্তিত্ব তোমার জীবনে আছে যার সাথে ফোনে কথা না বলেও সব সময়ই তার কথা ভাবো তুমি । বালক ... প্রথম জন তোমার টাইম পাসের প্রেমিকা । পরেরজন তোমার ভালোবাসার মানুষ ।
কোন মেয়ে তোমার সাথে ইগো দেখালে তুমিও তার সাথে সমানতালে ইগো দেখাও । কিন্তু তোমার জীবনে এমন একজন মানুষ আছে যার শত অবহেলাতেও তুমি তার সাথে ইগো দেখাতে পারো না । প্রথমজন তোমার প্রেমিকা । পরের জন তোমার ভালোবাসা ।
মেডিকেল সাইন্স প্রেম আর ভালোবাসার ডেফিনেশন দিতে গিয়ে পার্থক্যটা তুলে ধরেছে এভাবে ---
""শারীরিক আনন্দ কেটে যাবার পরেও যদি কোন মানুষের সাথে তোমার আজীবন থাকতে ইচ্ছে করে তাহলে সেটা হচ্ছে ভালোবাসা । আর যদি সেরকম ইচ্ছে না আসে তাহলে ব্যাপারটা ছিল প্রেম ""
সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ প্রেম কে ভালোবাসা বলে চালিয়ে দেয় । প্রেম করতে করতে তারা একসময় ভালোবাসাই ভুলে যায় । বুঝতে পারে তখন যখন আচমকাই তাঁদের ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায় ।
এই কারনে দেখবেন দুই তিনটা প্রেম করে সময় কাটানো খারাপ মেয়েটাও নির্জনে কারো না কারো জন্য কেঁদে কেঁদে অস্থির হয় ।
সারাদিন অনলাইনে মেয়েদের ফ্লার্ট করতে থাকা ছেলেটাও একসময় ক্লান্ত হয়ে ক্ষান্ত দেয় ইনবক্সের নোংরা আলাপে । ভাবতে থাকে মাথার ভেতরে ঘুরতে থাকা মেয়েটাকে ।
the fact is .. শারীরিক আকর্ষন অনেকের প্রতিই থাকতে পারে , কিন্তু মনের টানটা থাকে একজনের প্রতিই । সেই একজনই হচ্ছে ভালোবাসার মানুষ , আর বাকিরা হচ্ছে প্রেমিকা । কিন্তু অনেকের সাথে প্রেম চালিয়ে যাওয়া ছেলেটা কখন যে নিজের অজান্তে ভালোবাসা ব্যাপারটাকে কবর দিয়ে দেয় তা সে নিজেও জানে না । যখন জানে তখন আর কিছু করার থাকে না । কারন ইতোমধ্যে সে হয়ে গেছে এটা অনুভুতিশুন্য রক্ত মাংসের রোবট ।
বিধাতা এদের কপাল থেকে ঘষে ঘষে চার অক্ষরের “”ভালোবাসা “” শব্দটা তুলে নেন । সেই জায়গায় লিখে দেন দুই অক্ষরের “”প্রেম “” । এই কারনে যার প্রেম হয় তার শুধু প্রেমই হয় । একটা পর একটা ,চলতেই থাকে ।
প্রেমটা হচ্ছে ড্রাগের মতো ।
ভালোবাসাটা অমৃতের মতো ।
বালক ...তুমি ভালোবাসায় বাঁচতে শেখো , প্রেমে নয় ।
Read More
AHK Team

নতুন করে প্রেমে পড়লাম অনন্যার

 Sunday, March 11, 2018     রোম্যান্টিক গল্প      No comments   
লেখক: আরাফাত ররহমান শুভ

সকাল ৯টা। কাঁথাটা গায়ে চড়িয়ে, ফুল
স্পিডে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ মনে
হল রুমে বৃষ্টি হচ্ছে। একটু পর খেয়াল
করলাম, আসলে আমার ফোনের
রিংটোন ই বৃষ্টির শব্দ ! ক্লান্ত চোখে
ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকালাম।
.
অনন্যা ফোন দিয়েছে ! প্রায় লাফ
দিয়ে বসলাম .বিছানার ওপর। ও যদি জানতে
পারে যে এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছি,
তবে আমার কপালে শনি আছে। তাই
কন্ঠটা একটু পরিষ্কার করে রিসিভ করলাম।
বললাম-
.
-হ্যা বাবু, বলো
.
-এতো দেরি হলো কেন রিসিভ
করতে? ঘুমাচ্ছিলেন সাহেব?
.
-না আমি তো...
.
-থাক, মিথ্যা বলতে হবেনা। কন্ঠ শুনে
বুঝেছি। একদম ৪টায় যদি পৌড়পার্ক এ না
পাই,সত্যি বলছি খুন হবা তুমি। তোমায় খুন
করে কাঁদতে পারব না, তাই ৪টায় ই আসবা।
.
-ওক্কে জান ! একদম ৩.৫৯ মিনিট এ আমায়
পৌড়পার্কএ পাবে।
.
-জানা আছে। আজ প্লিজ দেরি করোনা
বাবুটা। প্লিজ বাবু।
.
-আচ্ছা বাবু।
. ওহ পরিচয়টাতো দেওয়াই হল না আমি শুভ
ইন্টার ১ম বছরের ছাত্র আর ওর নাম
অনন্যা এস. এস. সি পরীক্ষা দিল এইবার
আজ প্রায় ৪ সপ্তাহ পরে ও দেখা
করতে চেয়েছে। এমনিতে ও খুব
একটা দেখা করেনা। কিন্তু দেখা করার
সময় দেরি হলে আমারর অবস্থা হয়
ভয়াবহ। অনন্যার কন্ঠ শুনে বুঝলাম, দেরি
হলে আজ খুন হবার চান্স আছে, তাই
সত্যিই ৪টার আগে যাওয়ার প্রস্তুতি
নিচ্ছিলাম। কিন্তু দুপুরে ঘুমাতেই ৩.৪৫
বেজে গেল। তবুও তেমন কিছু হবেনা
ভেবে আস্তে আস্তেই তৈরি হচ্ছিলাম।
.
আজ অনন্যার প্রচন্ড অপছন্দ হলুদ
পাঞ্জাবী পরেছি। হলুদ পাঞ্জাবী
পরলে ও প্রচন্ড রেগে যায়। আর তখন
ওর চোখগুলো আরও মায়াবী লাগে,
যার প্রেমে আমি বারবার পড়ি।
.
হেডফোন কানে লাগিয়ে রাস্তায় হাটছি।
হঠাত অনন্যার ফোন-
.
-হ্যা জান, বলো।
.
-৪.১৫ বাজে। আমার কথার কোনোই
দাম নাই তোমার কাছে?
.
-না মানে রিক্সা পাইনি। দৌড়ে আসছি এখন।
.
-বগুড়াতে কোনো কালেই রিক্সার
অভাব হয়না।
.
বলেই ফোন কেটে দিল অনন্যা। আমি
বুঝে নিলাম, বেশ বড় একটা ধাক্কা
আসবে আজ।
.
যখন পৌড়পার্কে পৌছলাম, দেখলাম
মহারানী আমার অপেক্ষায় বসে
আছেন। আমি একটা ফিছলা হাসি দিয়ে
বসতে গেলাম। তখনই ঘটল দুর্ঘটনা।
অনন্যা প্রায় চিৎকার করে বলল-
.
-ওঠ শয়তান, আজ সারাদিন তুই আমার সামনে
দাড়িয়ে থাকবি।
.
আমি সম্পুর্ন হতাশ হলাম। কারন আজ অনন্যা
তুই'করে বলেছে ! এর আগে যতবার
এমন হয়েছে, আমি বসতে পারিনি,
দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তাই চুপচাপ
দাড়িয়ে রইলাম।ও আবার বলল-
.
-ঐ এইডা কি পরেছেন স্যার, হ্যা? হিরু
হতে চাও শয়তান? তুই আজ খুন হবি রে।
.
-না মানে...
.
-একদম চুপ ! হেডফোন পরে আছিস
কেন শয়তান? আমার কথা তোর বিরক্ত
লাগে? এক্ষুনি এটা খুলে আমায় দিবি, নয়ত
মার খাবি।
.
-না জান, হেডফোন তো এমনি লাগিয়ে
রাখছি। গান চলছে না।
.
-তাই? ফোন বের কর
.
-না জান, আমি সত্যি বলছি
.
-বের কর বলছি শয়তান !
.
আমি ভয়ে ভয়ে ফোনটা দিলাম ওকে।
ও যেই হেডফোন খুলল, প্রচন্ড
শব্দে বেজে উঠল"লিংকিন পার্ক"এর
নাম্ব গানটির এই লাইনটা - I've become so
numb !
.
আমি দৌড়ে পালাব ভাবছি, কারন এই গানটা নাকি
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পঁচা গান ! কিন্তু আমার
কাছে তো এটা পৃথিবীর সেরা গান, ও
কেন জানি বোঝেনা এটা। মুখ গোমড়া
করে বলল-
.
-তুমি আবার এটা শুনছ !
.
-না মানে প্লে লিস্টে ছিল। তাই বাজছে।
আমি ইচ্ছা করে শুনিনি।
.
-আমার সাথে প্রেম করে তুমি অসাড়
হয়ে যাচ্ছো?
.
-না মানে, এই গানটা তো এটা মিন করেনা
বাবুটা
.
-আমায় শিখাতে আসবানা ! আমি বুঝি তো,
আর তোমায় কে বলেছে আমার
সাথে দেখা করতে আসতে? যাও নাম্ব
হয়ে থাকার দরকার নাই।
.
মেয়েটা কেঁদে ফেলেছে। আমি
বুঝিনি এই গানটা এমন ইফেক্ট আনবে ওর
ওপর। আমি ইচ্ছে করেই এই গানটা
শুনেছি। ওকে রাগানোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু
ওকে কাঁদানোর ইচ্ছা কখনই ছিল না। আমি
কি করব বুঝতে পারলাম না।
.
আমি বুঝতেও পারিনি কখন আমার
দুচোখের জল বাধ ভেঙেছে।
আস্তে করে বললাম,
.
-বাবুটা, এই গান আর কোনোদিন শুনব না।
.
-কাঁদছ কেন গাধার মত?
.
-আমার রাজকুমারী কাঁদছে যে !
.
-আমি মুছে দিব তোমার চোখের ঐ
শুভ্র কষ্ট গুলো?
.
-হু
.
এরপর আমার চোখের অশ্রুগুলো
অনন্যার আলতো .হাতের ছোয়ার
মাঝে জায়গা খুজে নিয়ে পালালো আমার
কাছ থেকে। অনন্যা কপট রাগ দেখিয়ে
বলল,"এমন ছিচ কাঁদুনে বর আমার একদম
পছন্দ না, বুঝেছ আমার মেয়ের
আব্বু..."
.
আমি আবার নতুন করে প্রেমে পড়লাম,
আমার রাজকুমারীর প্রেমে। ওর
চোখ গুলোর অশ্রুবিন্দুর প্রেমে,
ওর ভালোবাসার প্রেমে পড়লাম আমি।
আস্তে করে বললাম-
.
-জ্বী আমার মেয়ের আম্মু। আচ্ছা,
তোমায় একটা কবিতা শোনাবো?
.
-হু
আমি রিতমের মত বললাম-
"ধরো খুব অসুস্থ তুমি,
জ্বরে কপাল পুড়ে যায়,
মুখে নেই রুচি,
নেই কথা বলার অনুভুতি,
এমন সময় মাথায় পানি দিতে দিতে
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে যদি বলি-
ভালবাস?
তুমি কি চুপ করে থাকবে?
নাকি তোমার গরম শ্বাস,
আমার শ্বাসে বইয়ে দিয়ে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..."
.
.
আমি কবিতা শেষ করে তাকালাম অনন্যার
চোখের দিকে। দেখলাম বিন্দু বিন্দু
মুক্ত দানা জ্বল জ্বল করছে। আমি বললাম-
.
-কিছু ভুল করলাম বাবুটা?
.
অনন্যা কিছু বলল না, শুধু আমার বুকে
ঝাপিয়ে পড়ে আমার হলুদ পাঞ্জাবী টা
ভিজিয়ে দিল ওর অশ্রু দিয়ে। আমি কিছু
বলার আগেই ও বলে উঠল-
.
-ভালোবাসি... ভালোবাসি...
.
আমি আলতো করে ওর সিথিতে একটা
ভালোবাসা একে দিলাম। আবার প্রেমে
পড়লাম, অনন্যার ভালোবাসার প্রেমে...
আমার রাজকুমারীর প্রেমে।
ভুল ট্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন
Read More
AHK Team

ভালোলাগার অনুভূতি

 Sunday, March 11, 2018     রোম্যান্টিক গল্প      No comments   
writer :::পিচ্ছি রাজকুমার
আমি একটা রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট পড়তে যেতাম।আমি যেই সময়ে পড়তে যেতাম ঠিক সেই সময় দেখতাম একটা মেয়ে যেত।দেখতে শুনতে ভালই।অনেক বড় ঘরের মেয়ে দেখলে বোঝা যায়।আমি প্রায় প্রতিদিন মেয়েটাকে দেখতে পেতাম।মাঝে মধ্যে মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিত।কিন্তু সেই আমি হাসির কোন অর্থ খুজে পেতাম না।আরে ভুলেই গেছি আমার পরিচয় দিতে।আমি চয়ন।আমারা দুই ভাই।আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারে বাস করি।
মেয়েটার বাড়ির সামনে একটা মুদি দোকান আছে।আমি,দিপ্ত আর শীলন এই তিন বন্ধু মাঝে মাঝে ওই দোকানে গিয়ে আড্ডা দিতাম।আমরা যখন ওই দোকানে আড্ডা দিতাম তখন মেয়েটা তাদের বেলকনিতে দাড়িয়ে থাকত।আমার সাথে চোখাচোখি হত।মাঝে মাঝে আমাকে দেখে কেমন যেন একটা করত।আপনারা হয়ত ভাবছেন আমি মেয়েটাতে ভালোবাসি।আসলে তেমন কিছুই না।আমি শুধু যেতাম আড্ডা দিতে।
যাতে টাইমপাস হয়।মেয়েটাও হয়ত ভাবত আমি মেয়েটাকে দেখতে তাদের বাসার সামনে যাই।অথবা তাকে দেখার জন্য তার পেছন পেছন যাই।আসলে মেয়েটা সুন্দর হলেও আমি তাকে নিয়ে কিছুই ভাবতাম না।আমার আবার প্রেম করা একদম অপছন্দ।এর পেছনে যথেষ্ট কারন আছে।আসলে আপনারা যা ভাবছেন তা না।
আপনারা ভাবছেন হয়ত আমি ছ্যাকা খেয়েছি বলে আমার প্রেম পছন্দ না।প্রেম করার কোন মনমানসিকতা আমার নাই।
আজ আবার আড্ডা দিতে দোকানে গেলাম তিন বন্ধু মিলে।যথারীতি আজও দেখি মেয়েটা তাদের বেলকনিতে দাড়িয়ে আছে।তো আমরা তিনজনে আড্ডা দিচ্ছিলাম।এমন সময় শীলন বলল
শীলনঃদোস্ত সামনে একটা বাসা দেখছিস?
আমিঃহ্যা।তো কি হয়েছে?
শীলনঃওখানে দেখ একটা মেয়ে বসে আছে
আমিঃতো আমি কি করব?
দিপ্তঃএই শীলন তুই মেয়েদের দিকে এত নজর দিস কেন?
শীলনঃআরে না মেয়েটা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে
আমিঃচোখ আছে তাই তাকিয়ে আছে
দিপ্তঃকেন আমাদের দিকে কি কারও তাকানো বারন?
শীলনঃনা
আমিঃতাহলে চুপ থাক
শীলনঃওকে
আমরা আরও 20মিনিট ধরে আড্ডা দিলাম।তারপর আমরা যার যার বাসায় চলে আসলাম।বাড়ি এসে একটু পড়াশোনা করে ঘুমাতে গেলাম।
সকালে ঘুম ভাওল মায়ের ডাকে।
মাঃএই চয়ন ওঠ
আমিঃহু
মাঃহু না করে ওঠ
আমিঃএত তাড়াতাড়ি কেন?
মাঃআজ আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা না?
আমিঃওহ আমার তো মনেছিলো না।
মাঃহ্যা তাড়াতাড়ি ওঠে রেডি হয়ে নে
আমিঃআচ্ছা তুমি যাও
মাঃঅচ্ছা
তাড়াতাড়ি করে ঘুম থেকে উঠলাম।ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম।আজ আমরা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।কিছুক্ষনপরে আমরা গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
দীর্ঘ 4ঘন্টা ভ্রমনের পর গ্রামের বাড়িতে পৌছলাম।বাড়ির সবার সাথে কুশল বিনিময় করলাম।
আমরা মোট 7দিন ছিলাম।এই তিনদিন অনেক মজা করলাম।বেশি মজা করেছিলাম গ্রামের সবার গাছ থেকে ফল চুরি করে খেয়ে।আমি আবার দুষ্টু প্রকৃতির।
তিনদিন পর আবার যথারীতি বাড়িতে ফিরে আসলাম।মনটা একটু খারাপ লাগছে।এই 7দিন যাদের সাথে ছিলাম তাদের খুব মনে পড়ছে।করার তো আর কিছুই নেই তাই ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দিলাম।ঘুম ভাঙল বিকালে।ঘুম ভাঙার পরে দেখি প্রাইভেট টাইম এখনো আছে।ভাবলাম বাড়িতে বসে আর কি করব প্রাইভেটা পড়েই আসি।ভালোভাবে প্রাইভেটটা শেষ করে বাসার দিকে আসছিলাম এমন সময় হঠাৎ করে সেই মেয়েটা আমার সামনে এসে দাড়ালো।
আমিঃএই যে আমার সামনে দাড়ালেন কেন?
মেয়েটাঃআপনাকে কথন থেকে ডাকছি?শুনতে পান না নাকি?
আমিঃআমি কি করে জানব যে আপনি আমাকে ডাকছেন?আর আমার কাছে আপনার কি দরকার?
মেয়েটাঃদরকার আছে।আগে বলুন এই কয়দিন আপনি কোথায় ছিলেন?
আমিঃতা আপনাকে কেন বলব?
মেয়েটাঃআমি শুনেছি তাই
আমিঃকিন্তু আমি বলব না
মেয়েটাঃকেন?
আমিঃআপনাকে চিনিনা তাই
মেয়েটাঃআমি রিতু।এবার দশম শ্রেনিতে পড়ি।এবার তো পরিচিত হলাম?
আমিঃনা।
মেয়েটাঃআবার কি?
আমিঃআমিতো আমার পরিচয় দিই নি
মেয়েটাঃআমি আপনাকে চিনি।
আমিঃকিভাবে?
রিতুঃআপনার বন্ধুরের কাছ থেকে
আমিঃওহ ভালো
রিতুঃএবার বলেন কোথায় ছিলেন?
আমিঃতাও বলবা না
রিতুঃকেনো?
আমিঃএইমাত্র পরিচিত হলাম।এতেই তো সব কথা শেয়ার করতে পারব না।
রিতুঃআচ্ছা আমরা তো বন্ধু হতে পারি?
আমিঃতা তো পারি
রিতুঃআচ্ছা আমরা তাহলে এখন থেকে বন্ধু
আমিঃওকে
রিতুঃআমরাতো এখন থেকে বন্ধু তাই তুমি করে বলব
আমিঃহুম
রিতুঃএবার বলো কোথায় ছিলে?
আমিঃগ্রামের বাড়িতে গেছিলাম
রিতুঃওহ।আচ্ছা একটা কথা বলবে আমাকে?
আমিঃহ্যা বলো
রিতুঃতোমার গালফ্রেন্ড আছে?
আমিঃহ্যা আছেতো(মিথ্যা বললাম)
রিতু কিছু না আর কিছু না বলেই কাদতে কাদতে চলে গেলো।কি এমন বললাম যে কাদতে হবে।মেয়েদের মনা বোঝা বড়ই কষ্টকর।আমি বাড়িতে ফিরে আসলাম।বাড়িতে এসে দেখি আরেক অবস্থা।দেখি বাবা আর মা আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে।অবাক লাগল বাবা এইসময়ে বাড়িতে।বাবা এইসময়ে বাড়িতে থাকে না কোনোদিন।তাও আমাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।আমাকে দেখা মাত্রই ডাক দিলেন।
বাবাঃএই চয়ন শোন
আমিঃকি হয়েছে?
বাবাঃতুই কি প্রেম করিস?
আমিঃমানে?
বাবাঃআমি বলছি তুই কি প্রেম করিস?
আমিঃনা।
মাঃতাহলে রিতু কি আমাদের মিথ্যা বলেছে?
আমিঃরিতু কে?
মাঃআজ তুই যাকে বলেছিস তোর গালফ্রেন্ড আছে
আমিঃতোমরা রিতুকে কিভাবে চিনো?
বাবাঃও আমার বন্ধুর মেয়ে।ও আমাদের সব বলেছে।
আমিঃআরে আমি মিথ্যা বলেছি
বাবাঃসে তুই বলিস রাতে তুই রেডি হয়ে থাকবি
আমিঃকেনো?
মাঃআজ তোর বিয়ে
আমিঃওহ আচ্ছা।কিহহহহ?আমার বিয়ে?
বাবাঃহ্যা আজ রাতে রিতুর সাথে তোর বিয়ে
আমিঃকেন রিতুর সাথে আমার বিয়ে কেন?
বাবাঃছোটবেলায় তোদের বিয়ে ঠিক করা ছিল।আর বিকালে তোর কথা শোনার পর রিতু আনেক কেদেছে।তাই ওর বাবা আজই
তোদের বিয়ে দিতে চাই।
আমিঃআমি বিয়ে করতে পারব না এখন।
আমার কথা শুনে বাবা মা দুজনই চলে গেল।ভাবলাম তাহলে বেচে গেছি।কিন্তু আমার ধারনা পুরাই ভুল রাতেই আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিছে।
এখন বাসর ঘরের দিগে এগোচ্ছি।ঘরে ঢুকা মাত্রই রিতু আমাকে সালাম দিল।
আমিঃআচ্ছা একটা কথা বলি?
রিতুঃহ্যা বলো
আমিঃআচ্ছা তুমি গালফ্রেন্ডের কথা বাবা মাকে কেন বলেছো?
রিতুঃকারন তোমার সাথে আমার বিয়ের হওয়ার কথা।আর ওনি প্রেম করবে শখ কত
আমিঃআরে আমি তো তোমাকে মিথ্যা বলেছিলাম।আমি প্রেম করিনা।
রিতুঃনা করলেই ভাল
আমিঃআচ্ছা আমার এখন বর বউ?
রিতুঃতা নয়ত কি
আমিঃতাহলে একটু আদর করি?
রিতুঃযা দুষ্টু
বাকি অংশ টিভিতে দেখে নিয়েন।একন আর বলার সময় নেই।বুঝতেই পারছেন বউকে একটু.............
মানুষ মাত্রই ভুল তাই আমিও ভুলের উর্ধে নয়।ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।ভালো লাগলে আমাকে Add দিতে পারেন আমার টাইম লাইনে আরও গল্প আছে পড়তে পারেন।
Read More
AHK Team

গল্পটা ভালবাসার , নাকি প্রতিশোধের!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

 Sunday, March 11, 2018     রোম্যান্টিক গল্প      No comments   
একটি বদ্ধ ঘরে খুব অন্ধকার। আলভি চিৎকার করে যাচ্ছিলো কিন্তু কেউ শুনছিলো না। হাত, পা, চেয়ারে বাধা, মুখটা কিছু একটা দিয়ে বাধা রয়েছে। তাই চিৎকার করতে গেলেও সেটা শুধুই গোঙ্গানোর আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। হটাৎ কেউ একজন ঘরটাতে প্রবেশ করলো। বাতিটা জ্বালালো। যে প্রবেশ করলো সে সম্ভবত একজন মেয়ে। মুখটা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখা। আলভি বোঝার চেষ্টা করে সেটা কে।
★চলেন একটু অতীত থেকে ঘুরে আসা যাক★
"একা বোর হচ্ছি, কখন আসবে?"
"এইতো জ্যামে বসে আছি।"
"তাড়া তাড়ি আসো আলভি।"
"জানিনা, লেট তো হতেই পারে।"
"আমি ক্যাম্পাসের গেটে তোমার জন্য দাড়াবো?"
"না থাক।"
"আচ্ছা আসলে বলবা ।"
,,,,,,ফোনটা কেটে অাদিবা অপেক্ষা করতে থাকে আলভি'র জন্য। কখন আসবে ছেলেটা। একটু একটু করে ক্লাসে সবাই চলে এসেছে। শুধু আলভিই আসেনি। ক্লাসে মন নেই অাদিবা'র। হটাৎ ক্লাসের দরজাটা খুলে লেকচারার আর আলভি দুজনেই এক সাথে আসে। ক্লাসে সবাই যার যার মত বসেছে। অাদিবা জায়গা রেখেছিল আলভি'র জন্য। কিন্তু আলভি অন্য সিরিয়ালে একেবারে পেছনে গিয়ে বসে।
,,,,,,মনটা খারাপ হয়ে যায় আদিবা'র। ছেলেটা একবার ওর দিকে তাকালোও না!!! ক্লাসে মন ছিলো না তার। বার বার পেছনে তাকিয়ে দেখে কি করছে ছেলেটা?? বার বার তাকাচ্ছিলো তাই ম্যাম বলল "আদিবা দাড়াও"। দাড়িয়ে পড়ে সে। ম্যাম জিগ্গাসা করলো "তুমি এদিক ওদিক করছো কেন বার বার, ক্লাসে মনযোগ কোথায় তোমার??"। আদিবা কিছু না বলে মাথা নিচু করে বলে "সরি ম্যাম"। ম্যাডাম অতিরিক্ত কিছু বলল না। বলল "ক্লাসে মনযোগ না থাকলে কিছু বোঝালে তো বুঝবেনা, দেখ সমস্যা তোমাদেরই বেশি হবে তাতে"। আদিবা সরি বলে। ম্যাডাম বসতে বলে তাকে। তবুও লুকিয়ে দেখছিল আলভি কি করে।
,,,,,,ক্লাস শেষ হতেই সবাই যখন দাড়িয়ে পড়লো। ম্যাম বেড়িয়ে যাবে। আলভি তখন নোট খাতাটা হাতে নিয়ে ম্যাডামের সাথে কথা বলতে বলতে চলে গেলো। আদিবার খুব রাগ হয়। ম্যামের ডেক্সে পড়া গুলো আর একটু ভাল করে বুঝে নিচ্ছিলো আলভি। অাদিবা এসে নক করে। "ম্যাম আমারও একটু প্রবলেম ছিল যদি একসাথেই বোঝাতেন???"। ম্যাম ভেতরে আসতে বলে। আলভি'র পাশের চেয়ার টায় বসে। ম্যাডাম পড়া গুলো দেখিয়ে দিচ্ছিলো আদিবা বুঝতেছিলো, আর আড়চোখে ছেলেটার দিকে তাকাচ্ছিল। ম্যাডাম ব্যাপার টা বুঝতে পেরে মুচকি হেসে বলে "তাহলে আজ একটুকুই। আমার অন্য কাজ আছে"।
,,,,,,আলভি ব্যাগ টা কাধে নিয়ে মেম কে সালাম দিয়ে বের হয়ে যায়। পেছন পেছন আদিবাও আসে। আলভির ব্যাগটা টেনে ধরে সে।
" এসবের মানে কি আদিবা "
" ভাব দেখাচ্ছো কেন??? "
" কখন দেখালাম !!! "
" দেখাওনি? ক্লাসে একবারও তাকাওনি, এখনও কথা বলোনি এসবের মানে কি? "
" না মানে ফ্রেন্ডদের সাথে এক্সট্রা কথা বলে কি দরকার? "
" কচু, তুমি তো কথাই বলোনি। "
" ওহ সরি। "
" ইট্স ওকে। বেরো বে তো??? "
" হ্যা, আজ তো একটাই ক্লাস ছিলো। এখন বাসায় ফিরবো। "
" বাসায় না। চলো ক্যাফেটেরিয়া তে যাই "
" অন্যদিন? "
" অতিরিক্ত করছো... যাবে কি যাবেনা?? "
,,,,,,বাধ্য না হয়ে উপায় ছিলো না আলভি'র। আর কোনো উপায় না পেয়ে বলল "ঠিক আছে"। নিজের অাদিবার পেছন পেছন যাচ্ছিলো সে। এরপর আদিবা কে বলে "জাস্ট টু মিনিট হ্যা?"। একটু অন্যপাশে গিয়ে নিজের মানি ব্যাগ টা হাতে নিয়ে দেখে শুধু ভাড়া'র টাকা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। লজ্জা পেয়ে যায় আলভি। মানিব্যাগটা পেছনের পকেটে রেখে। আদিবার সামনে গিয়ে বলে, "ইয়ে মানে আদিবা, আজ আমাকে বাসায় ফিরতেই হবে তাড়া তাড়ি, নেক্সটাইম আমরা কফি খাবোই কেমন?"।
,,,,,,আদিবা ধরে ফেলে আলভির ব্যাপার। কিন্তু ডিরেক্টলি ভাবে বলেনা। ছেলেটা লজ্জা পেতে পারে ভেবে বলে "ট্রিট টা আমি দিবো, তোমাকে খেতেই হবে"। তুবও রাজি হচ্ছিল না আলভি। তাই হাতটা শক্ত করে ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় আলভি'কে। বাকিরা হা করে তাকিয়ে থাকে।
,,,,,,কফিটার ধোয়াঁ গুলো উড়ছে। আলভি কফির কাপটার দিকে তাকিয়ে থাকে। আদিবা জিগ্গাসা করে "খাচ্ছোনা কেনো??"। আলভি শান্ত গলায় বলে "আদিবা আমরা শুধুই ফ্রেন্ড তো, না মানে যেভাবে টেনে আনলে লোকে কি মন করেছে কে জানে???"।
,,,,,,একটু কাশি দিয়ে ভারী গলায় আদিবা বলে "হুমমম ফ্রেন্ড"। আলভি কফিটা হাতে নিয়ে খেতে থাকে। আদিবা আনমনা হয়ে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকে। আলভি হাতে তুরি বাজিয়ে বলে "কি হলো??"। আদিবা কফিটা হাতে নিয়ে চুমুক দিয়ে বলে "না তেমন কিছুনা"।
,,,,,,,"আলভি দাড়াওওও" বিদায়ের বেলায় ডাক দেয় আদিবা। ছেলেটা দাড়িয়ে পড়ে। আদিবা সামনে গিয়ে দাড়ায়। "এক মিনিট" বলে নিজের ব্যাগ থেকে একটা হাজার টাকার নোট বের করে আলভির শার্টের পকেটে ভরে দেয়। আলভি নিতে চায়না তবুও জোর করেই দিয়ে দেয়।
,,,,,,,আলভি চলে যাচ্ছে, পেছন দাড়িয়ে ছেলেটির চলে যাওয়া দেখছে আদিবা। মনে মনে মুচকি হেসে নিজের গাড়িতে উঠে বাসায় ফিরে আসে সে। পড়ায় মন বসছিলো না তার। তাই ছেলেটিকে ফোন করে। অথচ আলভি ফোনটা রিসিভ করেনা । জাস্ট ছোট করে একটা মেসেজ করে "Good n8 Alvee..."
.
ঘুমিয়ে পড়ে আদিবা। সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখে কোনো রিপ্লাই নেই। ফেসবুকে গিয়ে দেখে { • Active 10 minitues ago } . ছেলেটা ফেসবুকে এসেছিল অথচ মেসেজ করেনি। মনটা খারাপ করে বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেস হয় সে। সারাদিন মুড অফ থাকে তার। আজ শুক্রবার তার মানে আজ ক্লাস নেই। দেখাও হবেনা।
,,,,,,সারাদিন কোন রকম ভাবেই কাটিয়ে দেয় সে। কাজিনদেন সাথে আড্ডা দেয় তবুও মনটা অন্য কারো কাছে রয়েই গেছে। গাড়িটা নিয়ে হাতিরঝিলে বেড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় দাড়িয়ে থাকে মন টা কিছুটা হাল্কা হলে আলভি কে ফোন করে।
---কি করছো আলভি??
---এই তো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম।
---আমি হাতিরঝিলে তুমি কি আসবে?
---না। এখন সম্ভবনা।
---আমি তোমার জিএফ হলে এভাবে বলতে পারতে???
---কিন্তু তুমি আমার ফ্রেন্ড তাইনা?
---হুমমম। কাল তাড়া তাড়িই আসবা। তোমার সাথে জরুরী কথা আছে।
,,,,,,ফোনটা কেটে গাড়িটা স্টার্ট করে আদিবা, বাড়িতে ফেরার জন্য। পরদিন ক্লাস শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগেই ক্যাম্পাসে চলে যায়। আলভি কে বার বার ফোন করে। কিন্তু আলভি রিসিভ করে না। একটু একটু করে ক্লাসের টাইম হয়ে যায়। ক্লাসে গিয়ে বসে সে। কিন্তু আলভি আর আসেনা। প্রায় ৩ টা ক্লাস ছিলো যা খুব বোরিং ভাবেই কাটে তার। ক্লাস থেকে বের হবে এমন সময় একজনের থেকে শোনে "দোস্ত আলভি তো আর সিঙ্গেল রইলোনা, দেখ ফেসবুকে in a relationship স্যাটাস দিয়েছে। এজন্যই তো মামা আজ ক্লাসে আসেনি, নিশ্চয়ই গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে ঘুরতে গেছে"। কথাটা শুনে মাথা গরম হয়ে যায় আদিবার। তাড়া তাড়ি ফেসবুকে লগইন করে দেখে ঘটনা সত্যি। তাছাড়া স্যাটাসও দেয়া রয়েছে (আজ থেকে সিঙ্গেল রইলাম না আর...কেউ একজন আমার কাধে ঝুলে বসেছে) স্যাটাসের সাইডে কিস ইমু দেয়া রয়েছে। তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে আদিবা। বাড়িতে ফিরে নিজের ঘরের দড়জা আটকে কাদতে থাকে সে। আর একটু পর পর ই অালভির স্যাটাসের কমেন্স চেক করতে থাকে। সেখানে আলভি ও তার গার্লফ্রেন্ডের দুজনই লুতুপুতু দুষ্টুমি দেখে গা জ্বলে যায় তার। এভাবেই কিছুদিন যায়। কিন্তু আদিবার সহ্যের সীমা পার হয়ে যাচ্ছিলো।
,,,,,,,এরপরের ঘটনা... একটি বদ্ধ ঘরে খুব অন্ধকার। আলভি চিৎকার করে যাচ্ছিলো কিন্তু কেউ শুনছিলো না। হাত, পা, চেয়ারে বাধা, মুখটা কিছু একটা দিয়ে বাধা রয়েছে। তাই চিৎকার করতে গেলেও সেটা শুধুই গোঙ্গানোর আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। হটাৎ কেউ একজন ঘরটাতে প্রবেশ করলো। বাতিটা জ্বালালো। যে প্রবেশ করলো সে সম্ভবত একজন মেয়ে। মুখটা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখা। আলভি বোঝার চেষ্টা করে সেটা কে।
.
মেয়েটি সামনে এসে দাড়ায়। আলভি চিৎকার করে। মেয়েটি কিছু না বলে সামনে থাকা চেয়ার টিতে বসে পড়ে। শুধু চোখ দুটো বের করে তাকিয়ে থাকে ছেলেটির দিকে। আলভি কথা বলতে চায়। মেয়েটি মুখের বাধন টা খুলে দেয়। আলভি চেচিয়ে বলে "আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি?? কেন আমার সাথে এমন করছেন??" হাপিয়ে কথা গুলো বলে সে।
.
মেয়েটি কিছু বলেনা। একটি সুপারী কাটার যাতী হাতে নিয়ে আলভি'র দিকে অনেক সময় তাকিয়ে থেকেই পায়ের একটি আঙ্গুল রাখে সেটিতে। আলভি অনুনয় করে কিন্তু কাজ হয়না। হটাৎ পায়ের একটি অাঙ্গুল কেটে ফেলে সেই মেয়েট। চিৎকার করে ওঠে আলভি। রক্ত ঝরে সেই আঙ্গুলের গোড়া দিয়ে। সেটিতে আবার ব্যান্ডেজ করে মেয়েটি। মেয়েটির চোখ দুটি লাল হয়ে আছে। মনে হচ্ছে তার বুকে প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে ছেলেটির জন্য। অপর আঙ্গুলটিতে আবার চাপ দেয়ায় সেটি দিয়েও রক্ত ঝড়ে।
.
মা গো বলে চিৎকার দিয়ে উঠে আলভি। এভাবে এই আঙ্গুলটাও কেটে ফেলে মেয়েটা। তারপর নিজের মুখটা থেকে উড়নাটা সরিয়ে ফেলে সে। আলভি অবাক হয়ে বলে "আদিবা তুমিইইই"। আর একটা আঙ্গুলে যাতী টা ধরে রাখে আদিবা। আলভির দিকে তাকিয়ে বলে "অনেকবার আম্মু কে ডেকেছো, এবার যদি আমার নাম না নিয়েছো, তাহলে বাকি গুলোও আমি শেষ করে ফেলবো"। বলেই পায়ের বাকি আঙ্গুলগুলোও কেটে ফেলে সে। এরপর ডান হাতের আঙ্গুলে সেটি রাখে...এবারও মা গো বলেই চিৎকার করে আলভি।
.
অাদিবা রেগে গিয়ে বলে "আমার নাম ধরে ডাকলে কি হয়??? এবার কিন্তু জোরে আদিবা বলেই ডাকবে,,, নয়ত..." হটাৎ আদিবা খেয়াল করে আলভি সেন্সলেস হয়ে পড়েছে । প্রায় অনেক সময় পর যখন তার জ্ঞান ফেরে। দেখে আদিবা তার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই জেগে যায় মেয়েটা। তারপর গলাটা জড়িয়ে ধরে অাবার ঘুমানোর চেষ্টা করতে গেলে। হাতপা নাড়া চাড়া করতে থাকে আলভি। আদিবা বলে ওঠে।
"একটু ঘুমোতে দাওনা লক্ষীটা"
"কি অধিকার আপনার??"
"ওলে আমার বাবুটা রেগে গেছে"
"সরুন আমার কাছ থেকে"
"না সরবোনা। তোমার কাছে থাকার প্রকৃত অধিকারই আমার।"
"না কোন অধিকার নেই আপনার"
,,,,,বসা থেকে দাড়িয়ে পড়ে আদিবা। চোখ মুখ ধুয়ে এসে দাড়ায় আলভির সামনে। খানিক সময় তাকিয়ে থেকে বলে "জানো তোমার ডান হাতের আঙ্গুল গুলো কেনো কেটেছি??? কারন ওই অাঙ্গুল গুলোর মাঝে আমার আঙ্গুল গুলো থাকার কথা ছিলো, কিন্তু সেটা কোথায় হলো?? তুমি তো অধিকার গুলো অন্য কাউকে দিয়ে দিলে। আমার কষ্ট টা একটুও বুঝেছো??? তোমার জন্য আমার শত হাজার লক্ষ্য কেয়ার গুলোর জন্য আমাকে কি বলতে "আমরা শুধুই ফ্রেন্ড তো??"। আমাকে বার বার শুনতে হয়েছে, তুমি কখনো বুঝতেও পারোনি এজন্য আমি কত কেদেছি সে চোখের জল গুলোর মূল্য কি তুমি দিবে???"
.
"আদিবা তুমি কখনো বলোনি। আর আমাদের মাঝে রিলেশান কখনো সম্ভব ছিলোনা। কারন আমি একটু নরমাল টাইপের মেয়ে পছন্দ করি। খুব স্টাইলিশ, এরকম মেয়ে কে কখনো নিজের পার্টনার হিসেবে ভাবিনি। আর এমন মেয়ের সাথে রিলেশানে যেতে চাইতাম যে কিনা আমাদের স্যাটাসের মতই, যাতে বিয়ের পরও আমাকে বুঝতে পারে, আমার মা কে হেল্প করবে। আমার পরিবার কে ভালবাসবে। "
.
"কেন আমি কি তোমার আম্মুকে ভালবাসতাম নাহ, মা ভেবে?? তাকে হেল্প করতাম না??? তোমার পরিবার টাকে আপন করে নিতাম না? তোমায় বুঝতাম না?? একবার বলেছিলে? আমি তো পুরোই চেন্জ হতে রাজী ছিলাম তোমার জন্য" কথাটা বলেই যাতীটা আলভির পায়ের বৃদ্ধ আঙ্গুলটিতে রেখে চেপে ধরে আদিবা।
.
"নাহহহ আদিবাআআআ...আমি আর সহ্য করতে পারছিনা তুমি আমাক একেবারেই শেষ করে ফেলো কিন্তু এভাবে কষ্ট দিওনা"। আদিবা ঘুরে তাকিয়ে বলে "ওর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে না?? এটা তার শাস্তি, আমি আসতে বলেছিলাম এসেছিলে???" একেক করে পায়ের আর হাতের সব কটি আঙ্গুল কেটে ফেলে আদিবা।
.
চোখ দুটো মনে হচ্ছে ভেতরে ঢুকে গেছে আলভির। মুখটা শুকিয়ে গেছে। শরীরে বল নেই। কোনো রকম বেচে আছে বলা যায়। এই এক সপ্তাহ ধরে আদিবা অনেক অত্যাচার করেছে তার ওপর। আলভি এখন বাধন মুক্ত। কিন্তু ডান হাতের আঙ্গুল গুলো কাটা তাই খুব ব্যাথা। আর দ্বিতীয়ত হাটতে পারেনা পায়ে অাঙ্গুলের ব্যাথায়। তাই হামাগুড়ি দিতে হয় তাকে। আদিবা খাইয়ে দিতে চেয়েছে কিন্তু সে খায়নি। তাই খাবার টা রেখে গিয়েছিল। সামনেই পড়ে আছে। কিন্তু খেতে পারছিলনা সে। খানিক সময় বাদে আদিবা আসে। আলভিকে ওভাবে মেঝেতে বসে থাকতে দেখে ছুটে এসে ধরে তোলে বিছানায় বালিশটা ঠেকিয়ে বসিয়ে দেয় তাকে।
.
"তখনই বললাম খাইয়ে দেই, দেখি এখন রাগ কমাও, তোমার জন্য আমি ছাড়া আর কেউ আপন নয়। দাড়াও হাতটা ধুয়ে আসি খাইয়ে দেবো"
.
"আমি মায়ের কাছে যাবো। আদিবা প্লিজ এভাবেই আমাকে যেতে দাও। আমি কাউকে তোমার কথা বলবোনা"
.
"আমাকে ছেড়ে যেতে চাইছো??? আমি থাকবো কি করে??? সব সময় নিজের কথা চিন্তা করো, তুমি খুব সেলফিস"
.
"আমাকে যেতে দাও আদিবা। আমাকে আর কষ্ট দিও না। প্লিজ ছেড়ে দাও আমায়"
.
"কথা বলোনা হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি"
,
,
খুব ক্ষিধে পেয়েছিলো তাই কিছু না বলেই খেয়ে ফেললো। আদিবা হাতটা ধুয়ে, উড়নাটা দিয়ে আলভির মুখটা মুছে দিলো। "আমাকে যেতে দাও আদিবা"। চেচিয়ে ওঠে মেয়েটা "উফফ অালভি। এত ভালবাসছি তোমার সহ্য হচ্ছেনা???" মনের মাঝে যে কত জ্বালা রয়েছে সেটা তখন কি করবে ভেবে অস্থির হয়ে যাচ্ছিলো আদিবা। নিজের জীবনটাকেও তখন কিছুনা মনে হচ্ছিলো তার। "প্রতিশোধ আমি তুলছিনা। কারন তোমাকে কষ্ট নয়, বরং ভালবাসতে ইচ্ছে হয়। তাহলে কেন সেধে কষ্ট পেতে চাইছো??"
.
"মেরে ফেলো আমাকে নয়ত আমি আমার নিজেকেই শেষ করে ফেলবো। এমনিতেও তুমি আমার সব শেষ করে দিয়েছো, আর বেচে থাকার ইচ্ছে নেই"
.
"কেন? আমরা বিয়ে করবোনা??? কিচ্ছু শেষ হয়নি তোমার। আমি সারাক্ষন তোমার পাশে থাকবো, খাইয়ে দেবো, ঘুম পাড়িয়ে দেবো, দাত ব্রাশ করিয়ে দেবো, তোমাকে গাড়িতে বসিয়ে ঘুরতে যাবো। কত মজা হবে বলোতো, শুধু আমাকে একটু ভালবাসতে পারবেনা?"
.
"জীবনের থেকে আর কখনো সেই আগের মত স্বাভাবিক কিছু আশা করিনা, আমি এক অতি অসাধারন"
.
"যা তা বলোনা, চোখ দুটো বন্ধ করে ঘুমাও,,,আমি ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি। রাত তো অনেক হলো। ঘুমোবে নাকি গল্প করবে?? বারান্দায় যাবে?? চা কফি??? "
.
"আমি ঘুমোবো"
.
"সব সময় আমার সাথে এমন করো। আচ্ছা ঘুমোও ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।"
,,,,,,রাত ৩ টা বাজে। আদিবা ঘুমোচ্ছে। আলভি নিজের বুকের থেকে আদিবা কে খুব ধীরে সরিয়ে বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করে। আদিবা ঘুমের মাঝেই নড়ে চড়ে আলভির হাতটা জড়িয়ে ধরে। খানিক সময় অপেক্ষা করে আস্তে করে হাতটা ছুটিয়ে বিছানা থেকে নেমে হামা গুড়ি দিয়ে। ড্রেসিং টেবিলের নিচের ডোর টা খোলে। একটি ব্লেড খুজে পায় সে। নিজের মাকে শেষ বারের মত একবার কল্পনায় ভেবে ব্লেড টা নিজের গলায় বসিয়ে দেয়। মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সে।
,,,,,বিছানায় নড়ে চড়ে আলভি'র অনুপস্থিতি অনুভব করতে পেরে লাফিয়ে ওঠে আদিবা। "আলভি, এই আলভি কোথায় গেলে?? আল...ভিইইই!!!!" অবাক হয়ে যায় সে। রক্তে পুরো মেঝে ভেসে গেছে, ছেলেটা নিথর হয়ে পড়ে আছে। কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বুকের মাঝে "আলভি... এমন করলে কেনো,,,এখন আমি করি...এই ওঠোনা আমি তোমাকে ভালবাসি তো...এই ছেলে??? ওঠোনা...এই...আমি কাদছি তো, ওঠোনা আলভি ওঠো"
.
অনেকবার ডাকার পর যখন আর উঠলো না সে। বার বার আলভির দিকে তাকাচ্ছিলো আর চিৎকার করে কাদছিলো। তখন কি করবে ভেবে অস্থির হয়ে যাচ্ছিলো আদিবা। নিজের জীবনটাকেও তখন কিছুনা, মনে হচ্ছিলো তার।
,,,,,,"তুমি তো আমাকে রেখে চলে গেলে...এখন আমি কি করবো?? আমি তো শুধু ভালবাসতে চেয়েছিলাম তোমায় নিজের কাছে আটকে রাখতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি হারিয়ে গেলে, এখন আমি কি নিয়ে বাচবো?, চলে যখন যাবে, তবে একা কেনো???" কাধের উড়নাটা দিয়ে আলভির হাতের সাথে নিজের হাত শক্ত করে বাধে সে "তোমার সাথে আমার আত্মা এই ওড়নায় শক্ত করে বাধা থাকবে সারাজীবন" । এরপর ব্লেডটা নিয়ে নিজের হাতে পোচ দেয় সে। গল গল করে রক্ত ঝগড়ছে আর সে পাগলের মত হাসছে "আলভি দেখো তোমার আর আমার রক্ত এক হয়ে যাচ্ছে, আমি বেচে থাকতে তোমায় পাই নি তো কি?? মরে গিয়েও ছাড়বোনা তোমায়, আই এম সরি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি আর দেবোনা "। অতপর আদিবাও নিথর হয়ে পরে। দুজনই হারিয়ে যায় গভীর ঘুমে। যেখান থেকে হয়তবা আর কখনোই জাগতে পারবেনা তারা। তাই পৃথিবীর জন্য এটাই সম্ভবত তাদের ভালবাসার পরিসমাপ্তি ছিল। কারন সব ভালবাসার হ্যাপি এন্ডিং হয়না।।।।
Read More

Date & Time

Recent

Current local time in
Bangladesh

Powered by Blogger.

Facebook

Report Abuse

blogger-disqus-facebook

About Me

AHK Team
View my complete profile
  • Home
  • About
  • Contact Us

Search This Blog

Categories

Tags

রোম্যান্টিক গল্প

Technology

3/Technology/small-col-left

Sports

3/Sports/small-col-right

Fashion

3/Fashion/big-col-right

Business

3/Business/big-col-left

Header Ads

Header ADS
  • Home

Popular Posts

  • ফুচকা প্রপোজ
    মেসেন্জারের ক্রিং ক্রিং শব্দে ঘুম ভাঙলো ইষাণার। নেট কানেকশন অফ না করেই ঘুমিয়ে পড়েছিল রাতে। ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে "অর্নব সেন্ট এ স্টিকার...
  • মেঘের কান্না
    একা বসে আছে দীপ।সামনে পড়ার বই।হঠাৎ করে মেঘের গর্জন শুনে চমকে উঠল সে।রিমঝিম বৃষ্টি শুরু হয়েছে।বৃষ্টি তার আপন গতিতে প্রকৃতির সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি...
  • ডাক্তার বউ
    সকালে ঘুম আছে এমন সময় ট্রাকের শব্দে ঘুমটা গেল ভেঙ্গে।বুকের ভিতর ধকপক ধকপক করছে।এত জ্বরে কেউ হরেন বাজায়?/তাও বাড়ির সামনে এসে।আম্মুকে ডাক দিলা...
  • Features
  • _Multi DropDown
  • __DropDown 1
  • __DropDown 2
  • __DropDown 3
  • _ShortCodes
  • _SiteMap
  • _Error page
  • Mega Menu
  • Seo Services
  • Documentation
  • Download This Template
  • Popular
  • Comments
  • Archive

Popular Posts

Main Slider

5/recent-comments

Blog Archive

  • ▼  2018 (35)
    • ▼  March (35)
      • অনুভূতির ইশারায়
      • প্রেম ও ভালবাসা পার্থক্য
      • নতুন করে প্রেমে পড়লাম অনন্যার
      • ভালোলাগার অনুভূতি
      • গল্পটা ভালবাসার , নাকি প্রতিশোধের!!!!!!!!!!!!!!!!!...
      • .............ধাক্কা.............
      • বাড়িওয়ালার মেয়ে যখন বউ
      • আব্বা আমি বিয়ে করবো
      • ছেলেটার একটা নাম দেওয়া দরকার
      • মধ্যবিত্বের ভালোবাসা
      • দুষ্টু মিষ্টি বিয়ে
      • সমবয়সী প্রেম
      • এক তরফা ভালোবাসা
      • ডাক্তার বউ
      • ব্রেকআপ
      • আশায় পানি
      • অবশেষে হলো ভালোবাসার জয়
      • ফুচকা প্রপোজ
      • অভিনয়
      • ফাজলামির ফল
      • বেস্ট অব লাভ
      • মেঘের কান্না
      • করল্লা
      • একেবারেই অন্যরকম কিছু
      • দুষ্টু - মিষ্টি ভালোবাসার গল্প
      • স্বামী - স্ত্রীর ঝগড়াটে ভালোবাসা
      • ভালোবাসার ছোঁয়া
      • রোমান্টিক মেয়ে
      • নাম না জানা ভালোবাসা
      • সেই মেয়েটি
      • মেলায় মিলন হলো
      • বাবা ও ছেলের ভালোবাসা
      • গ্রামের মেয়ে যখন শহরে
      • বন্ধুত্বের মাঝে প্রেম
      • পরিবর্তন

Featured Post

অনুভূতির ইশারায়

লেখক : Akash Sarker Nil . দুপুর বেলা অফিসে বসে কাজ করতেছি আর ওমনি প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইলে টুং করে মেসেজ রিংটোন বেজে উঠলো, বুঝতেই পারলাম...

Follow Our Page

Contact Us

Name

Email *

Message *

Videos

About Admin

I'm not that smart enough to be someone's favorite man. Of course I have a good mindset that can be a favorite friend of many. Maybe you can be your favorite friend. Let's do the same with which to behave like this. So maybe everyone does not love me or does not keep a list of good friends. I did not make my own picture later. Of all, the one-rose rose greetings.
Get more information about me, please ....click here.....

Feelings: 
*** Love never understood Do not seek passion. All day, books, sports and songs are heard.

Oh! Yes - "I'm not waiting for a prince, I'm waiting for him, the way I'm his prince"

Join With Us

For Get All Notifications Update to This Blog!

email updates

Most Commented Post

Copyright © Theme Buzz Bangladesh All Rights Reserved |